শৈশবের শীত
শৈশবের শীত
তাছলিমা আক্তার
১৩/০১/২০২৩ ইং
_______________
বছর ঘুরে পালা বদলে
প্রচন্ড শীত এখন
কাব্য ছন্দে লেখার প্রয়াস
স্মৃতি রোমন্থন।
কুয়াশা ভেজা সবুজ ঘাসে
শিশির বিন্দুর খেলা
ছোট্টবেলার মধুর সেই ক্ষন
স্মরণে দেয় দোলা।
গ্রাম বাংলার চিরায়ত রূপ
নেইকো আগের মত
আধুনিকতা কেড়ে নিয়েছে
সরলতা যত।
ফেলে আসা শৈশবটাকে
মিস্ করছি ভীষণ
চোখের সামনে ভেসে উঠে
সোনালী সেই জীবন।
দাদা বাড়ির দিনগুলি মোর
হারিয়ে গেছে বটে
তবু আমি ছুটে বেড়াই
স্মৃতির মানসপঁটে ।
ভোর সকালে চাদর গায়ে
চুলার কাছে এসে
বসতাম সবাই গোলটি হয়ে
উষ্ণ হবার আশে।
ধোঁয়া উঠা গরম চা
শীতের নরম রোদে
অমৃত সমান মনে হতো
গাভীর ঘন দুধে।
চিড়া মুড়ি খই আর
দারুণ স্বাদের মোয়া
অনুভবে আজো পাই
দাদীর হাতের ছোঁয়া।
ভোর সকালে খেজুর রসের
পায়েশ পিঠা পুলি
বিরনি চালের পাটিসাপটা
কেমন করে ভুলি?
ভাপা পিঠা চিতই পিঠা
আজো আমি খাই
সেই সময়ের স্বাদটুকু হায়
আর খুঁজে না পাই !
মোটা চালের গরম ভাতে
খাঁটি ঘিয়ের ঘ্রাণ
নতুন আলুর ভর্তা ছিল
মা চাচীদের প্রাণ।
কনকনে সেই শীতের সন্ধ্যায়
হারিকেনের আলো
মায়াবী করত চারপাশ তার
কাটিয়ে নিকষ কালো।
রাতের বেলা লেপের নিচে
দাদীর পাশে শুয়ে
মামদু ভূতের গল্প শুনতাম
রোমাঞ্চ আর ভয়ে।
রাত বাড়লেই ঝিঝি পোকা
উড়তো ঝাঁকে ঝাঁকে।
গভীর রাতে কেঁপে উঠতাম
হুক্কা হুয়া ডাকে।
শীত চলে যায় আবার আসে
কালের নিয়ম মেনে
আমার মনটা আজো হারায়
পুরনো সেই দিনে।
