স্মৃতিচারণ

স্মৃতিচারণ
তাছলিমা আক্তার
১২/১১/২০২২ ইং
মাথার চুলে রং লেগেছে
সাদা কালোয় মিলে
বয়সটা তো কম হয়নি
তেতাল্লিশের দলে।
চুরানব্বইয়ের ব্যাচটি মোদের
পিডিবিতে পড়তাম
দুরন্ত সেই দিনগুলোতে
পাখির মতোই উড়তাম।
ক্লাসের ফাঁকে খোশ মেজাজে
মজা করতাম ভীষন
চুয়ান্ন জনের ব্যাচে ছিল
ছেলের সংখ্যা দ্বিগুণ।
মেয়েরা ছিলাম গুটি কয়েক
ক্লাস টেনে তে এসে
কে যে কোথায় চলে গেছি
সময় স্রোতে ভেসে ।
প্রাণচঞ্চল ব্যাচটি মোদের
কাড়তো সবার নজর
খেলাধুলা আর চরুইভাতিতে
থাকতো সবার উপর।
স্যার আপাদের আদর শাসন
আজো মনে পড়ে
সোনালী সেই অতীত যেন
ডাকে বারে বারে।
আকন্দ স্যারের ঝাঁকড়া চুল
আর পুরোদস্তুর পোশাক
মাঝে মাঝে কাঁধ ঝাঁকিয়ে
করে দিতেন অবাক!
নজরুল স্যারের ভূগোল ক্লাসে
মাথা ঘুরতো ভোঁ ভোঁ
আহ্নিক গতি আর বার্ষিক গতি
ভুল করতাম শুধু।
মধুসূদন স্যার ক্লাসে ঢুকেই
বলতেন মেয়েদেরকে
কই গো সুন্দরীরা দেখি
কি শিখবে আজকে ?
ভূঁইয়া স্যারের বজ্র কঠিন
আওয়াজ শুনে ভয়ে
কত্ত ভুল যে করে বসতাম
মাথা রাখতাম নুয়ে।
মান্নান স্যারের সৌম্য মূর্তি
শান্ত স্নিগ্ধ স্বভাব
ভালো লাগতো ভীষন রকম
পড়তো মনে প্রভাব।
আক্তারোন্নেছা আপা ছিলেন
অন্তর্মুখী মানুষ
মনটা ওনার নরম কোমল
কঠিন বাইরের মুখোশ।
ওমর আলী স্যারের আদরমাখা
শাসন মনে পড়ে
বাবার মতোই মনে করতাম
স্যারের ব্যবহারে।
ইদ্রিস স্যারের আদর শাসন
মনে আছে খুব
ইংরেজি ক্লাস শুরু হলেই
ভয়ে কাঁপত বুক।
আক্তার স্যারের বানিজ্য গণিত
খুবই ভালো লাগতো
আবুল স্যারের বিজ্ঞান ক্লাসে
সাহস ফিরে আসতো।
রায়হান স্যারের প্র্যাকটিকেল ক্লাসে
সুযোগ হতো সবার
জবা ফুল আর ব্যঙের সাথে
পরিচিত হবার।
নুরুল কবির স্যার ছিলেন
মিশুক এবং গুণী
রাজিব স্যারের আদর স্নেহ
কেউই ভুলিনি।
শিপ্রা দিদির লম্বা চুল আর
ফর্সা গায়ের রং
মুখে থাকতো সবসময়ই
দারচিনি নয়তো লং।
ঊষা দিদির হাসিমুখ আর
হুজুর স্যারের কথা
কে কে তোমরা মনে রেখেছ
খোল স্মৃতির পাতা।
আজো স্যারেদের স্মরণ করি
সবাই মোদের প্রিয়
মানুষ গড়ার কারিগর তাঁরা
পরম পূজনীয় ।।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *