চিঠিপত্রের যুগ
প্রযুক্তির কল্যাণে মানুষের জীবন যাত্রা অনেক বদলে গেছে। আমাদের সময়টা ছিল চিঠিপত্রের যুগ। একটা চিঠি পোষ্ট করার পর প্রতি উত্তরের আশায় বিভিন্ন জায়গা ভেদে অপেক্ষা করতে হতো পনের দিন, এক মাস বা তারও কম বেশি।
সময়ের ব্যবধানে এখন আমাদের সবার হাতে হাতে মোবাইল ফোন!আমার এক কলিগ প্রায় সময়ই মজা করে বলতেন,’ মানুষ একটা সময় বাড়ি বাড়ি গিয়ে মোবাইল বিক্রি করবে!যেদিন এই সিস্টেম চালু হবে সেদিন আমি মোবাইল ফোন বাড়িতে বসেই কিনব!’
যাই হোক, আমার আজকের লেখাটা একটু অন্য প্রসঙ্গ নিয়ে।
আমরা যখন কাউকে ফোন করি তখন সেই ব্যাক্তির ঐ মুহূর্তে ফোনে কথা বলার সময় আছে কি না সেটা না ভেবেই নিজের কথা (সুখ, দুঃখ, আজাইরা প্যাচাল)বলতে শুরু করে দেই। অপর প্রান্তের ব্যাক্তিটি ফোন রিসিভ করে হয়তো মনে মনে বিরক্ত হচ্ছেন ! অথবা গালিগালাজ (মনে মনে)করে আপনার, আমার চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করছেন!!
।অনেক সময় দেখা যায়, যে মুহূর্তে আপনি, আমি ফোন দিলাম সেই মুহূর্তটায় হয়তো ব্যাক্তিটি কাজে ব্যস্ত নয়তো কোন কারণে মন খারাপ করে আছেন। আর তাই আমার মতে ,যখন কাউকে ফোন করব তখন প্রথমেই তাকে জিজ্ঞেস করে নেব” তিনি অবসর আছেন নাকি ব্যস্ত আছেন”।এতে করে দুজনের মনের জড়তা কেটে যাবে। সুবিধা অসুবিধা বুঝে একে অপরের সাথে মন খুলে কথা বলতে পারব। 
আমি নিজেও এই দিকটা খেয়াল রেখে ফোন দেই। ফোন রিসিভ করে কিছু সময় কথা বলতে ইচ্ছে করলে জিজ্ঞেস করে নেই আমার কথা শুনার মতো পর্যাপ্ত সময় তার আছে কি না। জরুরি প্রয়োজনে ফোন যখন করি প্রথমেই বলে দেই যে, আমি জরুরি কিছু বলতে চাই। 
সবশেষে বলতে চাই, কথার আদান প্রদান হোক সাবলীল ও আনন্দময়। বিরক্তির কারণ যেন না হয় সেই দিকটা মাথায় রেখে চলা উচিত প্রতিটি সচেতন মানুষের। ধন্যবাদ সবাইকে। 
